Dhaka ১২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৩৭১ দুর্গাপূজা মণ্ডপে নজরদারি করবেন কোস্ট গার্ডের দক্ষিণ জোন চরফ্যাশন চৌকি আদালতে বিশেষ মিডিয়েটর হলেন হারুন অর রশিদ ভোলায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত চরফ্যাশনের এওয়াজপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রহমান হাজারীর নির্বাচনী গণসংযোগ এসপির গ্রেপ্তার নির্দেশের পরদিন ওসির অনুষ্ঠানে মামলার আসামিরা, শিক্ষক ও সচেতন মহলে ক্ষোভ ভোলার পশ্চিম ইলিশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীসহ ৭ জনকে কুপিয়েছে দূর্বৃত্তরা ভোলায় চরফ্যাশনে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন, জনমনে স্বস্তি চরফ্যাশনের আনজুর হাটে ব্যবসায়ীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা চরফ্যাশনে ওমরপুরে স্ত্রী’র পরকীয়ায় প্রবাসী স্বামীর মানবেতর জীবন চরফ্যাশনে সরকারি বন্দোবস্তের জমি দখল বাণিজ্য ও বিক্রির অভিযোগ
বিজ্ঞাপনঃ
স্বাগতম! 🎉 আপনি এখন [আপনার ওয়েবসাইটের নাম]-এর সদস্য। সর্বশেষ সংবাদ, এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট এবং আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইটে। ধন্যবাদ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য

ভোলার পশ্চিম ইলিশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীসহ ৭ জনকে কুপিয়েছে দূর্বৃত্তরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২২:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯০ Time View

ভোলা প্রতিনিধি।।

ভোলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে একটি স্কুলের খেলার মাঠ সম্প্রসারণের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকের পর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন— বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন সিকদার, তাঁর বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নাসির উদ্দিন সিকদার, ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন দুলাল, কলেজ স্টাফ জসিম উদ্দিন সিকদার এবং সেলটেক সিরামিক কোম্পানির কর্মকর্তা নুরুদ্দিন সিকদার ওয়াসিম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরপাতা গ্রামে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘আব্দুল হাকিম বাঘা আদর্শ স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন সিকদার। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে মাঠ সম্প্রসারণের জন্য হালিমা খাতুন নামের এক নারীর কাছ থেকে চার শতাংশ জমি ক্রয় করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি স্থানীয় মোশারফ গং ওই জমির মালিকানা দাবি করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করলে পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং উভয় পক্ষকে থানায় কাগজপত্র নিয়ে যেতে বলে। পরবর্তীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এই বিরোধ মীমাংসার জন্য শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্থানীয় মানিক বাঘার উদ্যোগে সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে কোনো সমাধান না হওয়ায় উভয় পক্ষ চলে যাওয়ার পর স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা খায়ের উদ্দিন সিকদারের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।
আইনজীবী খায়ের উদ্দিন সিকদারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন মানিক বাঘা। সেই চাঁদা না দেওয়ায় মানিক বাঘা ও তাঁর ছেলের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে তাঁদের পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তাঁর পাঁচ ভাইসহ তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা পুলিশ ও জনগণের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বাড়িতে হামলার পর মানিক বাঘার নেতৃত্বে স্কুল ভাঙচুর করা হয়। স্কুলের গাড়ি ভাঙচুর করে গাড়ির ব্যাটারি নিয়ে যায়। স্কুলে থাকা নগদ অর্থ লুট করে তারা।
অভিযোগ অস্বীকার করে মোশারফ বলেন, “স্কুলের মাঠে আমাদের জমি রয়েছে, সেই জমি নিতে গেলে তারা বাধা দেয় এবং আমাদের লোকজনকে হামলা করে।”
অপরদিকে সালিশের আয়োজক মানিক বাঘা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই তিনি উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশে বসেছিলেন, কিন্তু উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

ভোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, স্কুলের মাঠের জমি নিয়ে সংঘর্ষের খবর তাঁরা শুনেছেন। তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এই বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৩৭১ দুর্গাপূজা মণ্ডপে নজরদারি করবেন কোস্ট গার্ডের দক্ষিণ জোন

ভোলার পশ্চিম ইলিশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীসহ ৭ জনকে কুপিয়েছে দূর্বৃত্তরা

Update Time : ১১:২২:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোলা প্রতিনিধি।।

ভোলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে একটি স্কুলের খেলার মাঠ সম্প্রসারণের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকের পর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন— বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন সিকদার, তাঁর বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নাসির উদ্দিন সিকদার, ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন দুলাল, কলেজ স্টাফ জসিম উদ্দিন সিকদার এবং সেলটেক সিরামিক কোম্পানির কর্মকর্তা নুরুদ্দিন সিকদার ওয়াসিম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরপাতা গ্রামে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘আব্দুল হাকিম বাঘা আদর্শ স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন সিকদার। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে মাঠ সম্প্রসারণের জন্য হালিমা খাতুন নামের এক নারীর কাছ থেকে চার শতাংশ জমি ক্রয় করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি স্থানীয় মোশারফ গং ওই জমির মালিকানা দাবি করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করলে পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং উভয় পক্ষকে থানায় কাগজপত্র নিয়ে যেতে বলে। পরবর্তীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এই বিরোধ মীমাংসার জন্য শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্থানীয় মানিক বাঘার উদ্যোগে সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে কোনো সমাধান না হওয়ায় উভয় পক্ষ চলে যাওয়ার পর স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা খায়ের উদ্দিন সিকদারের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।
আইনজীবী খায়ের উদ্দিন সিকদারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন মানিক বাঘা। সেই চাঁদা না দেওয়ায় মানিক বাঘা ও তাঁর ছেলের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে তাঁদের পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তাঁর পাঁচ ভাইসহ তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা পুলিশ ও জনগণের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বাড়িতে হামলার পর মানিক বাঘার নেতৃত্বে স্কুল ভাঙচুর করা হয়। স্কুলের গাড়ি ভাঙচুর করে গাড়ির ব্যাটারি নিয়ে যায়। স্কুলে থাকা নগদ অর্থ লুট করে তারা।
অভিযোগ অস্বীকার করে মোশারফ বলেন, “স্কুলের মাঠে আমাদের জমি রয়েছে, সেই জমি নিতে গেলে তারা বাধা দেয় এবং আমাদের লোকজনকে হামলা করে।”
অপরদিকে সালিশের আয়োজক মানিক বাঘা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই তিনি উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশে বসেছিলেন, কিন্তু উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

ভোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, স্কুলের মাঠের জমি নিয়ে সংঘর্ষের খবর তাঁরা শুনেছেন। তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এই বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।