Dhaka ১২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৩৭১ দুর্গাপূজা মণ্ডপে নজরদারি করবেন কোস্ট গার্ডের দক্ষিণ জোন চরফ্যাশন চৌকি আদালতে বিশেষ মিডিয়েটর হলেন হারুন অর রশিদ ভোলায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত চরফ্যাশনের এওয়াজপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রহমান হাজারীর নির্বাচনী গণসংযোগ এসপির গ্রেপ্তার নির্দেশের পরদিন ওসির অনুষ্ঠানে মামলার আসামিরা, শিক্ষক ও সচেতন মহলে ক্ষোভ ভোলার পশ্চিম ইলিশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীসহ ৭ জনকে কুপিয়েছে দূর্বৃত্তরা ভোলায় চরফ্যাশনে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন, জনমনে স্বস্তি চরফ্যাশনের আনজুর হাটে ব্যবসায়ীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা চরফ্যাশনে ওমরপুরে স্ত্রী’র পরকীয়ায় প্রবাসী স্বামীর মানবেতর জীবন চরফ্যাশনে সরকারি বন্দোবস্তের জমি দখল বাণিজ্য ও বিক্রির অভিযোগ
বিজ্ঞাপনঃ
স্বাগতম! 🎉 আপনি এখন [আপনার ওয়েবসাইটের নাম]-এর সদস্য। সর্বশেষ সংবাদ, এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট এবং আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইটে। ধন্যবাদ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য

চরফ্যাশনে সরকারি বন্দোবস্তের জমি দখল বাণিজ্য ও বিক্রির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৬৮ Time View

ভোলা প্রতিনিধি।।

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আবু বকরপুরে সরকারি বন্দোবস্তের জমি বিক্রির নামে অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে, নিরীহ লোকদের সাথে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আনোয়ার হোসেন ও আবুল কাশেম নামের একটি চক্র। এতে অতি শীঘ্রই বৈধ কাগজপত্রের অভাবে ভূমি ও ঘর ছাড়া হবে ঐ এলাকার কয়েক শত পরিবার। সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, আনোয়ার হোসেন ও আবুল কাশেমসহ একটি ভুমিদস্যু চক্র জালিয়াতির মাধ্যমিক কিছু কাগজপত্র তৈরি করে নিরীহ লোকদের সাথে ভুলভাল বুঝিয়ে তাদের থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সরকারি বন্দোবস্ত দেয়া জমি বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

এতে বঞ্চিত হচ্ছে, বন্দোবস্ত প্রাপ্ত কাটদাড়ি সাধারণ লোকজন। ওই এলাকার মোহাম্মদ আমির হোসেনসহ অনেকে জানান, আমি মূর্খ সুখ্য মানুষ, আনোয়ার মাওলানা আমার থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে একটি কাগজ হাতে ধরিয়ে দিয়ে ৮ শতক জমি বুঝিয়ে দিয়েছে।

সেখানে আমি ঘর দরজা উত্তোলন করে বসবাস করতেছি। ওই এলাকার আবুল হাশেম নামের একজন হতদরিদ্র ব্যক্তি জানান, আনোয়ার মাওলানা ও কাশেম মাওলানা আমার থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে জমি দিবে বলে আমাকে দিনের পর দিন ঘুরাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা তাদের সম্পত্তি ফিরে পেতে, স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে একটি আবেদনপত্র দাখিল করেন। যা নিম্নরূপ- জনাব, যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা দরখাস্তকারীগণ আপনার আওতাধীন নিম্ন তফসিল বর্ণিত জমির মালিক নিযুক্ত আছি। উল্লেখিত বিবাদীগণ দুষ্ট, দূর্দান্ত, দাঙ্গা-হাঙ্গামাকারী, পরবিত্ত লোভী, জোর জুলুমবাজ, বেজাহানী, লাঠিয়াল সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক বটে। বিবাদীগণ দেশের প্রচলিত আইন কানুন ও শালিশ বিচার কিছুই মানে না। স্থানীয় নিরীহ মানুষের জায়গা জমি জোর পূর্বক দখল করিয়া ভোগ করাই বিবাদীগণের একমাত্র নেশা ও পেশা বটে। নিম্ন তফসিল বর্ণিত ১২০ একর জমি আমরা দরখাস্তকারীগণ মালিক নিযুক্ত থাকিয়া চাষাদের মাধ্যমে লগ্নী রাখিয়া উক্ত জমি ভোগ দখলে বিদ্যমান আছি। আমাদের উক্ত জমিতে বিবাদীগণের কোন প্রকার স্বত্ব, স্বার্থ কিংবা দখল নাই। বিবাদীগণ দীর্ঘ দিন যাবৎ আমাদের উক্ত মালিকানাধীন জমি জোর পূর্বক দখল করিয়া ভোগ করার পায়তারায় লিপ্ত রহিয়াছে। প্রায়ই বিবাদীগণ তাহাদের দলীয় লোকজন সহকারে আমাদের জমি দখল করিতে আসে। তাহাতে আমরা কিংবা আমাদের চাষাগণ বিবাদীগণের অন্যায় কাজে বাধা দিলে বিবাদীগণ আমাদেরকে মারপিট ও খুন জখম করার জন্য আক্রমন করে। কিছুদিন পূর্বে বিবাদীগণ আমাদের মালিকানাধীন জমিতে অন্যায় অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশ করিয়া অস্ত্রের মুখে আমাদের চাষাদের নিকট হইতে আমাদের কিছু জমি জোর পূর্বক দখল করে।

পরবর্তীতে আমরা দরখাস্তকারীগণ আপনি মহোদয়কে উল্লেখিত বিষয়টি মৌখিক ভাবে অবগত করিলে আপনি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি ও সুষ্ট সমাধানের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু নির্ধারিত দিনে বিবাদীগণ আপোষের জন্য উপস্থিত হয় নাই।

এছাড়াও বিবাদীগণ হুমকি দিয়া বলে যে, “তাহারা আইন কানুনের তোয়াক্কা করে না, বিবাদী যে কোন ভাবে আমাদের জমি জোর পূর্বক দখল করিবেই করিবে, আমরা যদি বিবাদীগণের অন্যায় কাজে বাধা দেই তবে আমাদেরকে হত্যা করিয়া আমাদের লাশ গুম করিয়া ফেলিবে” ইত্যাদি বলিয়া ভয়ভীতি প্রদর্শন করিয়াছে। মহোদয়, বিবাদীগণ অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির লোক। তাহারা যে কোন সময় আমাদের গুরুত্বর ক্ষতি সাধন করিতে পারে। এমতাবস্থায়, আপনি ভোলা ১১৮নং আসন (চরফ্যাশন-মনপুরা) এর অভিভাবক হিসেবে ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য আপনার দাঁড়স্থ হইলাম। অতএব, প্রার্থনা মহোদয় উপরোক্ত বিষয়ে মানবিক দিক বিবেচনা করিয়া বিবাদীগণের জবর দখল হইতে মালিকানাধীন জমি উদ্ধার করা সহ বিবাদীগণের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আপনার সদয় মর্জি কামনা করি।

তফসিল জমির পরিচয়-জেলা- ভোলা, উপজেলা- চরফ্যাশন, থানা- দুলারহাট, তৌজি নং- ৩৪, জে.এল নং- ৬৮, মৌজা- হাসানগঞ্জ, এস.এ খতিয়ান নং-৩৯৫, ৩৮৮, ৭১০, ৩৯২, ৪০৮, ৩৬৯, ৩৭১, ৪০৯, ৩৭৪, ৩৭৮, ৪০১, ৩৮৫, ৩৯৭, ৪১৯ এবং আরো কয়েকটি খতিয়ান রহিয়াছে, যাহার মোট জমির পরিমাণ- ১২০ একর।

এমতাবস্থায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন, ভুক্তভোগীরা ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৩৭১ দুর্গাপূজা মণ্ডপে নজরদারি করবেন কোস্ট গার্ডের দক্ষিণ জোন

চরফ্যাশনে সরকারি বন্দোবস্তের জমি দখল বাণিজ্য ও বিক্রির অভিযোগ

Update Time : ০২:২২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোলা প্রতিনিধি।।

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আবু বকরপুরে সরকারি বন্দোবস্তের জমি বিক্রির নামে অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে, নিরীহ লোকদের সাথে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আনোয়ার হোসেন ও আবুল কাশেম নামের একটি চক্র। এতে অতি শীঘ্রই বৈধ কাগজপত্রের অভাবে ভূমি ও ঘর ছাড়া হবে ঐ এলাকার কয়েক শত পরিবার। সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, আনোয়ার হোসেন ও আবুল কাশেমসহ একটি ভুমিদস্যু চক্র জালিয়াতির মাধ্যমিক কিছু কাগজপত্র তৈরি করে নিরীহ লোকদের সাথে ভুলভাল বুঝিয়ে তাদের থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সরকারি বন্দোবস্ত দেয়া জমি বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

এতে বঞ্চিত হচ্ছে, বন্দোবস্ত প্রাপ্ত কাটদাড়ি সাধারণ লোকজন। ওই এলাকার মোহাম্মদ আমির হোসেনসহ অনেকে জানান, আমি মূর্খ সুখ্য মানুষ, আনোয়ার মাওলানা আমার থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে একটি কাগজ হাতে ধরিয়ে দিয়ে ৮ শতক জমি বুঝিয়ে দিয়েছে।

সেখানে আমি ঘর দরজা উত্তোলন করে বসবাস করতেছি। ওই এলাকার আবুল হাশেম নামের একজন হতদরিদ্র ব্যক্তি জানান, আনোয়ার মাওলানা ও কাশেম মাওলানা আমার থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে জমি দিবে বলে আমাকে দিনের পর দিন ঘুরাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা তাদের সম্পত্তি ফিরে পেতে, স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে একটি আবেদনপত্র দাখিল করেন। যা নিম্নরূপ- জনাব, যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা দরখাস্তকারীগণ আপনার আওতাধীন নিম্ন তফসিল বর্ণিত জমির মালিক নিযুক্ত আছি। উল্লেখিত বিবাদীগণ দুষ্ট, দূর্দান্ত, দাঙ্গা-হাঙ্গামাকারী, পরবিত্ত লোভী, জোর জুলুমবাজ, বেজাহানী, লাঠিয়াল সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক বটে। বিবাদীগণ দেশের প্রচলিত আইন কানুন ও শালিশ বিচার কিছুই মানে না। স্থানীয় নিরীহ মানুষের জায়গা জমি জোর পূর্বক দখল করিয়া ভোগ করাই বিবাদীগণের একমাত্র নেশা ও পেশা বটে। নিম্ন তফসিল বর্ণিত ১২০ একর জমি আমরা দরখাস্তকারীগণ মালিক নিযুক্ত থাকিয়া চাষাদের মাধ্যমে লগ্নী রাখিয়া উক্ত জমি ভোগ দখলে বিদ্যমান আছি। আমাদের উক্ত জমিতে বিবাদীগণের কোন প্রকার স্বত্ব, স্বার্থ কিংবা দখল নাই। বিবাদীগণ দীর্ঘ দিন যাবৎ আমাদের উক্ত মালিকানাধীন জমি জোর পূর্বক দখল করিয়া ভোগ করার পায়তারায় লিপ্ত রহিয়াছে। প্রায়ই বিবাদীগণ তাহাদের দলীয় লোকজন সহকারে আমাদের জমি দখল করিতে আসে। তাহাতে আমরা কিংবা আমাদের চাষাগণ বিবাদীগণের অন্যায় কাজে বাধা দিলে বিবাদীগণ আমাদেরকে মারপিট ও খুন জখম করার জন্য আক্রমন করে। কিছুদিন পূর্বে বিবাদীগণ আমাদের মালিকানাধীন জমিতে অন্যায় অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশ করিয়া অস্ত্রের মুখে আমাদের চাষাদের নিকট হইতে আমাদের কিছু জমি জোর পূর্বক দখল করে।

পরবর্তীতে আমরা দরখাস্তকারীগণ আপনি মহোদয়কে উল্লেখিত বিষয়টি মৌখিক ভাবে অবগত করিলে আপনি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি ও সুষ্ট সমাধানের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু নির্ধারিত দিনে বিবাদীগণ আপোষের জন্য উপস্থিত হয় নাই।

এছাড়াও বিবাদীগণ হুমকি দিয়া বলে যে, “তাহারা আইন কানুনের তোয়াক্কা করে না, বিবাদী যে কোন ভাবে আমাদের জমি জোর পূর্বক দখল করিবেই করিবে, আমরা যদি বিবাদীগণের অন্যায় কাজে বাধা দেই তবে আমাদেরকে হত্যা করিয়া আমাদের লাশ গুম করিয়া ফেলিবে” ইত্যাদি বলিয়া ভয়ভীতি প্রদর্শন করিয়াছে। মহোদয়, বিবাদীগণ অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির লোক। তাহারা যে কোন সময় আমাদের গুরুত্বর ক্ষতি সাধন করিতে পারে। এমতাবস্থায়, আপনি ভোলা ১১৮নং আসন (চরফ্যাশন-মনপুরা) এর অভিভাবক হিসেবে ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য আপনার দাঁড়স্থ হইলাম। অতএব, প্রার্থনা মহোদয় উপরোক্ত বিষয়ে মানবিক দিক বিবেচনা করিয়া বিবাদীগণের জবর দখল হইতে মালিকানাধীন জমি উদ্ধার করা সহ বিবাদীগণের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আপনার সদয় মর্জি কামনা করি।

তফসিল জমির পরিচয়-জেলা- ভোলা, উপজেলা- চরফ্যাশন, থানা- দুলারহাট, তৌজি নং- ৩৪, জে.এল নং- ৬৮, মৌজা- হাসানগঞ্জ, এস.এ খতিয়ান নং-৩৯৫, ৩৮৮, ৭১০, ৩৯২, ৪০৮, ৩৬৯, ৩৭১, ৪০৯, ৩৭৪, ৩৭৮, ৪০১, ৩৮৫, ৩৯৭, ৪১৯ এবং আরো কয়েকটি খতিয়ান রহিয়াছে, যাহার মোট জমির পরিমাণ- ১২০ একর।

এমতাবস্থায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন, ভুক্তভোগীরা ।