
ভোলা প্রতিনিধি।।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আনজুর হাটে। এক ব্যবসায়ীকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ব্যাপারে চরফ্যাশন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন, ভুক্তভোগী মোঃ ইকবাল হোসেন খাঁ। এ পর্যন্ত পুলিশ একজন আসামিকে গ্রেফতার করলেও বাকি আসামীরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মামলায় উল্লেখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামী ১। মোঃ জুলহাস মুন্সি (৪৫), পিতা মোঃ হানিফ মুন্সি, সাং- চর কলমী ০১নং ওয়ার্ড, পোঃ আঞ্জুর হাট, ২। মোঃ মাহাবুব হাং (৪০), পিতা মৃত মজিদ হাং, সাং- চর কলমী ০৩নং ওয়ার্ড, পোঃ আঞ্জুর হাট, ৩। মোঃ সালামত ফরাজী (৫০), পিতা অজুদ ফরাজী, সাং- ভাষান চর ৪ নং ওয়ার্ড, পোঃ উত্তর আইচা, ৪। মোঃ আক্তার হাওলাদার (৩৫), পিতা মালেক হাং ৫। মোঃ ভুট্ট (৩৫), পিতা বেলায়েত হোসেন বেপারী। সাং- চর মায়া। ০৩নং ওয়ার্ড, পোঃ ‘আঞ্জুর হাট, কলমী, সর্ব থানাঃ শশীভূষণ, জেলাঃ ভোল।
উল্লেখিত আসামীগণ দুষ্ট, দুর্দান্ত, পরবিত্তলোভী, দাঙ্গা, হাঙ্গমাকারী, চোর, ডাকাত, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, সর্দার লাঠিয়াল, জোর জুলুমবাজ আইন কানুন অমান্যকারী, অসৎ প্রকৃতির লোক বটে। বাদী এবং আসামীগন একই এলাকায় বসবাস করে। আসামীগন এলাকার কোন শালিশ বিচার কিছুই মানে না। বাদী একজন সহজ, সরল লোক। আনজুর হাট বাজারে মা বাবার দোয়া পাটর্স স্টোরের ব্যবসা করিয়া আসিতেছেন। ১ নং আসামী বাদীর দোকান হইতে বিভিন্ন মালামাল বাকীতে নিয়া দীর্ঘ দিন যাবৎ টাকা দিতেছেনা। আসামী ঘটনার আগের দিন বাদীর দোকানে আসিয়া বাকীতে আরো কিছু মালামাল চায় এবং মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। বাদী দিতে রাজি না হইলে আসামীর সাথে তর্ক বির্তক হয়। আসামী বাদীকে প্রান নাশের হুমকি দিয়া চলিয়া যায়। গত ৮/৯/২৬ ইং তারিখ সকাল ১১.৩০ মিনিটে, আসামীগন পূর্বপরিকল্পিত বে-আইনী ভাবে দা, ছেনি, লোহার রড, এসএস পাইপসহ বাদীর দোকানে প্রবেশ করিয়া বাদীকে এলোপাতারী মারপিট করিয়া সমস্ত শরীরে মারাত্মক নীলা ফুলা জখম করে। ১ নং আসামী বাদীকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছেনি, দ্বারা মাতার মধ্যেখানে কোপ দিয়া গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। উক্ত মাথার কোপের জখমে ৬টি সেলাই লাগে। ২ নং আসামী বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো দা, দ্বারা কোপ মারিলে বাদী বাম হাত দ্বারা ঠেকাইলে বাম হাতের কবজির উপরে কোপ লাগিয়া গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম করে। ৩ নং আসামী বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দ্বারা আঘাত করিলে বাদীর বাম হাতের কনুইর নিচে লাগিয়া মারাত্মক থেতলানো ফাটা জখম হয়। ৩নং আসামী বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাদীর নাকে ঘুষি মারিয়া মারাত্মক হাড়ফাটা জখম হয়। ৪/৫নং আসামী বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় গামছা পেচাইয়া শ্বাস রোধ করিয়া হত্যার চেষ্টা করে। ২ নং আসামী বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে অন্তকোষ চাপিয়া ধরে। ১/২নং আসামীর বাদীর ক্যাশ বাক্সের ভিতরে থাকা নগদ ২,৩০,০০০/- টাকা নিয়া যায়। ৩ নং আসামী বাদীর গলা হইতে ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়া যায়। আসামীগন বাদীর দোকান ঘরের মালামাল ভাংচুর করিয়া অনুমান ২,০০,০০০/- টাকা ক্ষতি সাধন করে। বাদীর ডাক চিৎকারে বর্নিত স্বাক্ষীগন ও আস পাশের লোকজন আসয়িা বাদী কে রক্ষা করে স্বাক্ষীগনের মোকাবেলায় আসামীগন বাদী ও স্বাক্ষীগনকে মারাত্মক প্রান নাশের হুমকি দিয়া চলিয়া যায়। বাদীর অবস্থা বেশী গুরুতর বিধায় স্বাক্ষীগন বাদীকে বিগত ০৮/০৯/২৬ইং তারিখে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করে। যাহার ভর্তির রেজিঃ নং ৬২৮৮ বর্তমানে বাদী হাসপাতালে ভর্তি আছে। স্বাক্ষীগনের মোকাবেলায় আসামীগণ প্রাণ নাশের হুমকি দিয়া বাঃ দঃ বিঃ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৩৮০/৩৫৪/৫০৬ (২) ধারার অপরাধ করিয়াছে। মোকদ্দমায় স্বাক্ষী প্রমান আছে। বিচারামলে স্বাক্ষীগণ মামলার ঘটনা প্রমান করিতে সক্ষম হইবে। সেমতে বিনীত প্রার্থনা বিজ্ঞ আদালত ন্যায় বিচারের স্বার্থে দরখাস্তের বর্ণিত কারনে অত্র আসামীগনের বিরুদ্ধে দন্ড বিধি আইনের ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৩৮০/৩৫৪/৫০৬ (২) ধারায় আমলে নিয়ে গ্রেফতারী পরোয়ানা আদেশ প্রদান করে পুলিশ দ্বারা ধৃত পূর্বক জেল হাজতে আবদ্ধ রাখিয়া দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দানের আজ্ঞা হয়।
এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন খা ও ওই এলাকার সচেতন মহল।
Reporter Name 










