
ভোলা প্রতিনিধি।।
ভোলার মনপুরায় নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিনের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি দিয়েছে ভোলা জেলা স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষক সমন্বয় পরিষদ। এদিকে পুলিশ সুপারের (এসপি) নির্দেশের পরদিন মামলার এজাহারভুক্ত কয়েকজন আসামিকে সঙ্গে নিয়ে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন—এমন অভিযোগে শিক্ষক ও সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ভোলা জেলা স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষক সমন্বয় পরিষদ। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা মোহাম্মদ মোবাশ্বিরুল হক নাঈম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের ওপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়; এটি শিক্ষক সমাজের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলার ওপর আঘাত। ঘটনার ১০ দিন পার হলেও মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে পৃথক স্মারকলিপি দেন।
এসপির নির্দেশের পরদিন ওসির অনুষ্ঠানে আসামিরা—অভিযোগ
শিক্ষক নেতৃবৃন্দের দাবি, বুধবার স্মারকলিপি দেওয়ার সময় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপার মনপুরা থানার ওসিকে মোবাইল ফোনে মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
তবে শিক্ষক নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ওই নির্দেশের পরদিন বৃহস্পতিবার মনপুরা থানার ওসি মামলার এজাহারভুক্ত কয়েকজন আসামিকে সঙ্গে নিয়ে প্রকাশ্য একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজ ও স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশ থাকার পরও তারা কীভাবে প্রকাশ্যে পুলিশের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন—এ বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
মামলার বিবরণ
মনপুরা থানায় দায়ের করা মামলা নং-১৩, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে মনপুরা উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভেতরে অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ১৪৩/১১৪/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৫০৬(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—
১. মো. সেলিম (৪৫)
২. মো. রুবেল (৩৪)
৩. হাফেজ আবদুর রহিম (৫০)
৪. মো. মিজানুর রহমান (৫২)
৫. মো. আব্বাস উদ্দিন (৪৫)
৬. মো. মিজান (৪০), পিতা—আবুল হাশেম
৭. মাওলানা সিহাব উদ্দিন (৪৮)
৮. কামাল উদ্দিন (৫০)
এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৫–২০ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
শিক্ষক নেতৃবৃন্দের দাবি, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে মামলার আসামিদের সঙ্গে থানার ওসির প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Reporter Name 










